Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

সাঁঝবাতি

ধারণা ভাঙলে শব্দ হয়? তার কি যন্ত্রণা হয়? কাঁদে সে ব্যথা পেলে? হয়তো হয়, হয়তো কাঁদে। সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, কার্নিশে তখন জমতে থাকা শ্যাওলায় চোখের জল পিছলে নীচে পড়তে থাকে। তিনতলার ঝুলবারান্দা, দোতলার লাইব্রেরী, একতলার সিঁড়ির ঘর কেউ তাকে ডাকেনা, কেউ বলেনি, "দাঁড়া, কি হয়েছে?"

"বিপরীত মুখে চলে যাওয়া রাজপথ কতোটা সময় রেখে যায়---আয়ুহীন মাপকাঠি?"

অল্পেতে কষ্ট পায়, অল্পেতে হাসে। আর কষ্ট পেলে? হাসে। ধুলো উড়িয়ে, পাথর কুড়িয়ে নিয়ে হেসে ওঠে। পাথর জমানো যে তার শখ। সেই ছোট্টবেলার শখ। পরশপাথর? ধারণা ভেঙে পড়েছে। টুকরো টুকরো পাথর হয়ে। মাটির সোঁদা গন্ধে, বকুল কুড়াতে এসে কেউ পাথর তুলতে থাকে, বিন্দু বিন্দু শিশিরে তার হাত ভিজে যায়। 



Comments