Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

টুকরো কথা : ০৬

প্রবল আঘাত আমায় নৈঃশব্দ্য দেয়। উঠে চলে যেতে ইচ্ছে হয় খুব। নতুন চাদর পেতে, সব ঝেড়ে পরিপাটি দেখে চলে যেতে ইচ্ছে হয়। বসে থাকার দাগটুকু মুছে দিয়ে জানলার ফাঁক দিয়ে পিছলে আসা আলোয় যে ধুলোবালি ওড়ে ওদের সাথে আমি উড়ে যেতে চাই। ওদের মত আমায়ও কেউ মনে রাখেনি। তাই কী ভীষণ অনায়াসে উঠে যাওয়া যায়। তারপর লোভ হয়, বড় লোভ হয় থেকে যেতে, পরিপাটি বিছানায় বসে, আমার থেকে যাওয়াগুলো রেখে যেতে। তারপর? ধুলোবালি চোখে পড়ে। জল ঝরে ক্রমাগত। একসময় দেখি ছাই রঙ আমায় বুকে টেনে নেয়। জানলার গরাদ ডিঙিয়ে ধুলো-বালি-ছাই উড়ে যায়। আমার মত।
কবেকার পুরানো অনুতাপ আমায় উঠে যেতে শেখায়। আজ। শুধু ফিরে আসা ছাড়া।

Comments