Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

হৃদপদ্ম

১)

সহনীয় দ্বন্দ্ব বাঁধা
তীব্র হৃদয়-বিষাদ গাথা,
অহর্নিশ।
শোক-পত্র-পদ্মরাগে
নিভৃত স্বর-নিনাদ জাগে,
অনিমিখ।

২)
নামহীন ছুঁয়ে থেকো
দ্বৈত দোলাচলে,
ছুঁয়ে থেকো মায়াময়,
মুগ্ধ বাহুডোরে।

৩)
নিঃশব্দ চরণপাত
শব্দ মাতাল ভাঙন পাশে,
সন্তাপহীন সে পরবাসে,
অভিমানী সম্প্রপাতে
রুদ্র মাতে
তৃষিত আঁখিপাত।

৪)
হৃদয়ব্যাপী প্লাবন আসে
ক্ষত হয়, আলো-ফুল,
স্তব্ধ প্রেয়সী আকুল
পরজন্ম মাসে।

৫)
বিলাপী বাঁশী সুরে
তুমি মনোময়
সত্য কোরো তাকে
ক্ষণিক হৃদয়।

৬)
ক্ষত সব ফুল জন্ম পাক
অনন্ত বিষাদে,
অথৈ শোকাস্পদে
নিয়ত তিথিডোর
স্থায়ী হোক, স্থায়ী হোক।

৭)
শরণ‍্য তুমি, ভালোবেসো তাকে,
ছুঁয়ে থেকো তার হাত।
ব্যাপৃত হৃদয় দলে
তাকে নলিনী নামে ডেকো।

৮)
যতটুকু পড়ে গেছে বালি মুঠো থেকে
তার চেয়ে বেশী কিছু
স্থানিক স্থিরতা পায়
হৃদরক্ত নামে;
কী ভীষণ স্বল্প তার আয়ুষ্কাল,
ক্ষণজন্মা।

Comments