Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

টুকরো কথা : ০৮

"যদি জল আসে আঁখিপাতে, শ্রান্ত কণ্ঠে মোর সুর ফুরায়"

যে কথাগুলো আমার বুকের ভিতরটা ফাঁকা করে দেয়, অনেকটা ছোটবেলার নাগরদোলার মত। তখন ওপর থেকে নীচে নামতেই একটা শূন্যের অনুভূতি গ্রাস করত। ঠিক সেরকম। আজ সকালে উঠেই দেখি বাইরে রোদ ঝলমল করছে। ভাবলাম, সর্বনাশ দুপুর হয়ে গেল নাকি। তারপর ঘড়ির দিকে তাকাতেই এক স্বর্গীয় সুখ লাভ হল। দেখলাম নাঃ সাড়ে ছটা হয়েছে। জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই শুনি IICB এর দিক থেকে গানটা ভেসে আসছে। অতএব আমার আজ ছুটি। Lab যাবোনা। হ্যাঁ এই ফাঁকে বলি ওটা lab ঠিক নয় Phd scholar's room। আর computation এর জায়গা। 

আমার আজ অঘোষিত ছুটি। যদিও 3:30 থেকে QFT ক্লাস আছে। তাও ঠিক আছে। দেড় ঘণ্টা দেখতে দেখতে কেটে যাবে। কিন্তু যা শেষ হওয়ার নয় তা serotonin rush। এত কিছু অপ্রাসঙ্গিক কথা বলার পরেও আসল কথাগুলো বলাই যাচ্ছে না। সেই যা যা বলার, তা শুরুর আগেই শেষ হয়ে যায়। আর যা পরে থাকে তা বড় ভারী। তাকে লিখে, বলে, বুঝিয়েও ছেড়ে আসা যায়না। ওই কথাগুলো মনে পড়ে "দুঃখ পেওনা ইকারাস, ঈশ্বর তোমায় মেঘ বানাবেন বলে ডানা দেননি"। কিন্তু এমন যদি হত ইকারাস ডানা চায়নি, সে হেঁটে পেরিয়ে যেতে চেয়েছিল বনের পর বন, তারপর একদিন সেই পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে চেয়েছিল তাঁর মুক্তির কথা, সে হয়তো চেয়েছিল তাঁর আনন্দ, উচ্ছ্বাস, হাহাকার জোনাকি হয়ে উড়ে যাবে একদিন, হয়তো বা মেঘগুলো তাঁর বিষাদ নিয়ে চলে যেত অনেক অনেক দূরে....কিন্তু এভাবে ইকারাসের মুখের আদল বদলে বদলে কেন চেনা কোনও মুখ হয়ে ওঠে প্রতিবার, কেন এভাবে চেনা গানের সুর অচেনা হয়ে ওঠে, কেনই বা তিতাসের জলে ভাসিয়ে আসা নৌকোচিঠি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি তা ইকারাসের ঈশ্বর বলতে পারেননি, তা নাহলে ..... 

...... এতক্ষণে বাদাম গাছের ডালে আটকে যাওয়া ঘুড়িটা পাক খেতে খেতে নীচে নেমে আসত, আর ওপর দিকে তাকালে হয়তো দেখা যেতে পারত নীল ঘুড়ি মিশে মিশে যাচ্ছে আকাশের গায়ে.....ইকারাস।

"একদিন যদি বাধা পড়ে কাজে, শারদ প্রাতে তবু..."

Comments