Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

প্রিয়তম হে

মস্ত ঘর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা টুকরো কাগজ, জুড়ে জুড়ে সংলাপ হয়ে ওঠে। মাঝে মধ্যে দু একটা প্রজাপতি ছুঁয়ে গেলে তাদের কাগজি ফুল হয়ে ওঠা। আবহমানকাল ধরে জমতে থাকা শব্দেরাও স্তব্ধ হয়ে যায়। ঝড় উঠবে বলে এত আয়োজন? এলোমেলো হাওয়া দিলে শীত-শীত করে, অগোছালো হয়ে যায় সাজানো পরিপাটি সংলাপ। বাকী থাকে শেষ টুকরো জোড়া। তার আগেই প্রজাপতি হয়ে উড়তে থাকে টুকরো কথা, তাকে ডাকলে প্রলাপ বলে। তাই এবার বাঁধন আলগা হয়। মুক্তিও যে মধুর হতে হতে তিক্ত হয়ে ওঠে। সে কথা আজ আর মনে পড়েনা। ফাঁকা ঘর জুড়ে নিঃশব্দের ফুঁপিয়ে ওঠা, অবিরত। এসব পেরিয়ে গহীন আলোয় চোখ চলে যায়, এ দৃষ্টি ক্ষণকালীন, তবু শত বছরের চাওয়া, তাকে বাঁধবে ফুলডোরে, ভালোবাসার সাধ্য কই?

Comments