Skip to main content

Featured

ইতি, কথা।

তোমার সাথে আমার দেখা হলোনা।  আমি দেখলাম মানুষের ভিড়। তাদের আসা যাওয়া। দুবাক্স বই ভরে ছুটলাম দূরদেশে। তবুও দেখিনি তোমায়। ভ্রম ভেঙে ঘরে ঢুকি। ঘরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তের মাঝে বিদেশযাত্রার চেয়ে বেশি দূরত্ব আছে মনে হয় এখন। আমি মিথ্যের আশ্রয় নেওয়া মানুষের কাছে ফিরতে চাইনা আর। আজ থেকে আমি তোমায় খুঁজব না। মানুষের ভিড়ে, মানুষের একা হয়ে যাওয়ায় আমি তোমায় দেখব না কোনওদিন।

কোজাগরী

কটু একটু করে হারিয়ে যায় যা কিছু, তার বেশীরভাগটাই হিসেবের বাইরে থাকে। আর যেটুকু লিখে রাখা গেল সেসব পালক হয়ে উড়তে থাকল বুড়ো বটতলার দিকে। এই হিসেব নিকেশের মধ্যে সঞ্চয় বড় কম। যা পাওয়া যায় তার সবটাই যে খরচ হয়ে যায়। মা এনে দিত মাটির ঘট। ভাঙবো না, তাই জমাতে শেখা। জমতে জমতে ভারী হয়ে ওঠায়, তাকে কুলুঙ্গি থেকে আর নামানো হয়নি কখনো। আর ওদিকে কত পালক উড়ে গেল ততদিনে। বুড়ো বটতলায় সন্ধ্যে নামলে, ছোটদের ভিড়। দাদুভাই টেলিস্কোপ নিয়ে আসে। লাইরা নক্ষত্রপুঞ্জ। অর্ফিউসের বীণা, ঝংকার পারাপার করে ইচ্ছামতী। দাদুভাই বলত, ইচ্ছামতীর বয়ে যাওয়ার কথা। একমুখী পথ। ফিরে তাকায়নি কখনো। 'দাদুভাই, চলো ইউরিডিসকে আমরা মোহনা বলে ডাকি।' দাদুভাই হাসতে হাসতে অন্ধকার নেমে পড়ল ঝুপ করে। "মন রে মোর পাথারে হোসনে দিশেহারা।" হাওয়ায় হাওয়ায় শাদা পালক ওড়াউড়ি করে। নির্ভার। প্রাপ্তি সঞ্চয়ী হয়ে ওঠে। দায়হীন। অপলক। 

দাদুভাই, এমন জীবনকে আজ কী নামে ডাকি? কোজাগরী?


Comments