Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

টুকরো কথা : ১৭

যতবার আঘাতে কেবল দীর্ঘতর হয়েছে চিরকালীন শোক, ততবার সে মনে প্রানে চেয়েছে সমর্পণ, এক সদ্যজাত ফুল এই বুঝি হাতে তুলে দিল কেউ। অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ত একদিন, তার কাগজের নৌকা ভাসতে ভাসতে কূল পেতনা ঠিকই কিন্তু সেই ফাঁকে নতুন ইচ্ছে জন্মাত। সে পাহাড় দেখবে, তার চিলেকোঠার ঘরে নতুন বই আসবে, হঠাৎ কালবৈশাখী এলে অঙ্কের পাতাগুলো মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। যা কিছু অগোছালো সে সাজিয়ে নেবে আবার। খাতার পাতা ছেড়ে লাল মেঝেতে বসে যে সারা দুপুর ধরে বহুদিনের আটকে যাওয়া অঙ্ক ছাড়াতে বসবে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলে কাগজি ফুল গাছ তার আশ্রয় হয়ে উঠবে। একদিন সে জানতে পারল স্বপ্ন একা দেখতে হয়, বড় ভুল হয়েগেছিল সেদিন। একটা ইচ্ছের বোঝা সে তুলে দিয়েছিল অন্যের হাতে, যেমন করে সে জেনেছিল যাবতীয় আঘাতের পাশে প্রত্যাঘাত এর অবস্থান হয়তো নিয়তি, তেমনি নানা ঘাত-প্রত্যাঘাত ফেলে এসে এক সদ্যজাত ফুলের সমর্পণ হয়তো সেই নিয়তির মাঝে একটা ফাঁক। মুক্তির উপায়। যে ইচ্ছে তার আজন্মলালিত। কিন্তু, ভুল হয়ে যায় তাকে অন্যের ওপর আরোপ করায়। অপরিচিত আঘাত তাকে বড় দূরে নিয়ে গেল, যেখানে দৃষ্টি পৌঁছাল না। তবে সে ইচ্ছের নিথর দেহ দিয়ে গেছে কেউ। নিষ্কৃতি।

Comments