Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

টুকরো কথা :১৯

"তুই নাই বলে ওরে উন্মাদ পান্ডুর হল আকাশের চাঁদ...." ১৩,০৫২ কিলোমিটারের এক অসম্ভব দূরত্ব। কী ভীষণ আশায় জমা জলে নৌকা ভাসায়, ভাবে হোয়াইট রিভার মিশবে কোপাইয়ের সাথে জমা জল উপচে পড়ে ভেসে যাবে দীর্ঘ শীতল শীত, ভেসে যাবে আমার মৃতদেহ। আসলে এ ধরণের মানুষ স্কেপটিক. ভীতু. নির্বোধ. 
নদীতে যেমন পলিমাটি পড়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জন্ম নেয়, সেখানে না থাকে কোনও প্রাণ না থাকে কোনও প্রাণের ভরসা। এই মানুষগুলো জেগে ওঠে অগোছালো দ্বীপের মতো, একা: সহায়, সম্বলহীন অপদার্থ জীবনে অভ্যস্ত এক অসহ্য যন্ত্রণা হয়ে। 
 ঘুম ভাঙতেই দেখি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠছে মাতলার জল। শীত দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হওয়ার ফাঁকে ঘুমে চোখ বুজে আসে, পলায়ন প্রবণতা ভেসে যায় জোয়ারের স্রোতে। সেশব এবারের মতো শীতল: নিথর, ভালোবাসার কাছে পরাজিত এক দুঃসহ স্বপ্ন। অ্যাসিটামিনোফেন. চোখ বুজে আসে। দ্বীপ ডুবে যায়।

Comments