Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

টুকরো কথা: ২০

"চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়, বিচ্ছেদ নয় চলে যাওয়া মানে নয় বন্ধন ছিন্ন করা আর্দ্র রজনী চলে গেলে আমারও অধিক কিছু থেকে যাবে আমার না থাকা জুড়ে।" একটা নিস্তরঙ্গ জীবনের মধ্যে হঠাৎ সেদিন কতগুলো পাতা ঝরেছিল একটা, দুটো করে। তাতে প্রত্যেক স্তর কেঁপে ওঠে ভয়ে, ওরা লুকিয়ে পড়তে পারলে বাঁচে। ম্লান আলো ভরসা। অথচ পুজোর আগে আগে এই মরতে বসা আলো বড় বেমানান। একদিকে আশ্রয় খোঁজা ভীতু জীবন, অন্যদিকে চিলেকোঠার জাফরীতে চোখ রাখা ভোর। এসবের মাঝে শুধু তুমি নেই। কোনওদিন ছিলেনা। তোমায় পাব আর কিছুদিন পর। ডিসেম্বরের ছুটিতে। অক্টোবর তাই কল্পনাবিলাসী। ভাবে কোন চিঠি কার ঠিকানায় পৌঁছালো। এসবের মাঝে সন্ধ্যে সাড়ে ছটা হতেই বেজে ওঠে "যা চন্ডী মধুকৈটভাদিদৈত্যদলনী"। আজ সন্ধ্যে নয়, আজ পৃথিবীর যেকোনও প্রান্তে আমার ভোর হয়। আমার ভোর। মোবাইলের স্ক্রীনে চোখ পড়তেই দেখি, "উঠলি?"। বহুবছর ধরে চেনা পরিচিত স্বর। সেই সুদূর ভারত থেকে ইন্ডিয়ানাপোলিসে এসে পৌঁছায়। প্রেম মহাসমারোহে আসুক আর নাই আসুক, হৈ হৈ করে কেউ পরম যত্নে মহিষাসুরমর্দিনী শোনানোর আয়োজন করে। ভৌগোলিক দূরত্বকে শুধুই কেবল সংখ্যামাত্র বলে যখনই মনে হতে শুরু হয়েছে ততবার অনুতাপহীন পরিণাম এসে স্তব্ধ করে দিয়েছে। একক থেকে বহু হয়ে ওঠার মাঝে একটা দুটো শুকনো ম্যাপল পাতা উড়ে এসে পড়ে। ভারসাম্য হারায় প্রবাস যাপন। মাকে মনে পড়ে। বড্ড মনে পড়ে।

Comments