Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

টুকরো কথা: ২১

 মা,

তবু দেখো কী অসহ্য আলোয় বেঁচে আছি। গল্প বলতে বলতে যেখানে তুমি ঘুমিয়ে পড়েছিলে সেখান থেকে মনে না পড়া কথাগুলো বলতে শুরু করেছি আমরা। আমাদের অভাবগুলো আজ তোমার গল্পের মতো শোনায়। আবছা আলোয় আমাদের ব্যথাগুলো প্রলাপ হয়ে ওঠে। যেমনটা তুমি বলতে।
বড়ো হয়ে মায়ের মতো হব।
"ফিরব বললে ফেরা যায় নাকি..." জন্মদাগ বরাবর এগোতে এগোতে পেরিয়ে এসেছি তেইশ ইছামতী। মুহূর্তের অনুতাপ ভেসে ভেসে আসে আমাদের কাছে। তোমার গল্প হয়ে। বিস্মৃতি ভুলে আবার আমাদের গল্প বলা শুরু হয়।
ঘর ছেড়ে আমরা বড় হয়ে যাই, কিন্তু কোথায় ফিরব আজ?
"আমাদের পথ চাওয়াতেই আনন্দ..." আমাদের পাদুটো বড় ক্ষতবিক্ষত। দুহাতে আঁকড়ে ধরা বইয়ের ফাঁক থেকে তোমার মুখ দেখি, রক্ত ধুয়ে যায়। অপ্রাপ্তির হিসেবে আমাদের প্রাপ্তি?
শশ্মান থেকে কাদামাটি এনে আমরা মায়ের মুখ আঁকি, সমস্ত নৈঃশব্দের ভিতর থেকে আমরা তোমায় ধারণ করি। আমরা তোমার মত হব। ঠিক তোমার মতো।
"চলিতে পথে পথে বাজুক ব্যথা পায়ে..."

Comments