Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

টুকরো কথা - ২৪

কিছু বন্ধন ছিন্ন হোক এবার। কিছু অপমান ফেরত যাক ডাকে। ভালোবাসা হোক সেই পরিযায়ী পাখি। ডাকবে তাকে বন্য ফুলের নামে। 

আবারও এক নতুন বছর আসবে, আবারও তুমি দুঃখ পাবে; জানি। এ যন্ত্রণার শেষ কোথায়? ভাববে অনেক অনেক রাত অবধি। বাইরের অন্ধকারে চেয়ে থাকবে ইনসমনিয়ায় ভোগা দুই চোখ। ব্যবহার করা স্যানিটারী ন্যাপকিনের গন্ধ বেরোবে এই শরীর থেকে। গা গুলিয়ে উঠবে। ঈশ্বরকে কাঠগড়ায় তুলে জানতে চাইবে, "কেন করছ এরকম?"। ঈশ্বর তোমার সামনে তুলে ধরবেন প্রেম - সম্মান। তুমি নির্বোধের মত এবারও প্রশ্ন করবে, "কেন আলাদা করে দিলে দুই পথ?" শুধু তুমি শুনতে পাবে না, জানতে পারবেনা; প্রেম নয়, ভালোবাসা নয়, ওই পথ মিথ্যের, অসম্মানের, চরিত্রহীনতার, লাম্পট্যের। ঈশ্বরের কাছে তুমি প্রার্থনা করবে ক্ষতচিহ্ন মুছে ফেলার। তুমি ভুলে যাবে রক্তাক্ত শরীর থেকে বিঁধে থাকা ধারালো অস্ত্র সরিয়ে ফেলতে। ভালোবাসবে তুমি আবার ক্ষতবিক্ষত হবে। মৃত্যু আসবে বলে অধীর অপেক্ষায়, তুমি আবার ভালোবাসবে।

Comments