Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

টুকরো কথা- ২৬

হাতে সময় বড়ই কম। এত ঘাত-প্রত্যাঘাতের হিসেব মেলানোর সময় কোথায়? বহু মানুষের ভিড় ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার সাধ্য নেই, আবার পদপৃষ্ট হওয়ার ভয়ে মরব বলেও মরা হলনা। এমনই ভারসাম্যহীন, এতই শৃঙ্খলপ্রবণ জীবন যে সে আটকে পড়ল বেঁচে যাওয়া আর মরে পড়ে থাকার মাঝামাঝি কোনও এক নামহীন স্তরে। তাকে যতই সন্ধিক্ষণ ভাবার চেষ্টা করি ততই সে সরতে থাকে কোনও এক প্রান্তে। ডাক্তার দেখালে হয়তো ভ্রূ কুঁচকে বলতেন বাইপোলার ডিসঅর্ডার। আমার পছন্দ হলনা। বললাম প্রান্তিক মানুষ যে মধ্যপন্থা বেছে নিতে পারলনা বলে... ভোরের সদ্যজাত আলো আর গোধূলীর মরতে বসা আলোর মাঝখানে এক গোছা রজনীগন্ধা হাতে যারা দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ দেখে, কেউ দেখেনা। 


Comments