Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

উড়োচিঠি- ০৪

প্রিয় দাসমশাই,

এই বোবা শহরে তন্নতন্ন করে তোকে খুঁজেগেছি কতবার। ছন্দহীন, তালহীন বেসুরো গানে বৃষ্টি নামে আজ। লাল পাখি ভিড় করে উঠোনে। তোকে দেখাতে পারেনি বলে চোখদুটো আমার দৃষ্টি ঝাপসা করে দেয়। সাইকেল নামাই। বড় রাস্তা পেরোতেই সেলিমপুর, গাঙ্গুলীবাগান, যাদবপুরের গলিপথ হুড়মুড়িয়ে নেমে পড়ে লকফিল্ডের অচেনা ব্লেকস্ট্রীটে। বরফে ঢেকে যায় সন্ধ্যে মেখে দাঁড়িয়ে থাকা কলকাতার অলিগলি। এই ধূসর রঙ আমি চিনিনা। বিচ্ছেদ আর ভালোবাসার মাঝে সমর্পণের মত শব্দ হারিয়ে গেছে, বহুদিন। অভিমান সত্যিই জমাট বাঁধে, বরফের মত ঠান্ডা। খুব শীত করে। ক্যালপল খাবোনা আর। চোখ পুড়ে পুড়ে ধূসর রঙ গাঢ় হয়, কালো খুব কালো। তার মাঝে মাঝে লাল রঙে মিশে যায় ঠোঁট। তুই আমার যাপনের ঠিক কতখানি জুড়ে আছিস তা এই অক্ষর জানেনা। ওরা প্রশ্ন করলে আমি বলেছি ওদের, তোর নাম। গোটা পৃথিবীকে নিঃশব্দে জানিয়ে এসেছি, ভালোবাসি। দ্বন্দ্বের সীমান্তে আমার জীবন, কাঁটাতারের বেড়া রক্তাক্ত করে রোজ। ফেরা হবে তো আমার? কোনওদিন?

কেন? কোথায়? কিচ্ছু জানিনা। শুধু জানি,

প্রশ্নহীন উত্তরময় জীবন তোর হোক। আমি কাগজি ফুলের গোছা নিয়ে দাঁড়াব শব্দের কাছে। শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে তুই লিখবি ঘর-বাড়ি-আমি-তুই----

তোর,

কথা


Comments