Skip to main content

Featured

ইতি, কথা।

তোমার সাথে আমার দেখা হলোনা।  আমি দেখলাম মানুষের ভিড়। তাদের আসা যাওয়া। দুবাক্স বই ভরে ছুটলাম দূরদেশে। তবুও দেখিনি তোমায়। ভ্রম ভেঙে ঘরে ঢুকি। ঘরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তের মাঝে বিদেশযাত্রার চেয়ে বেশি দূরত্ব আছে মনে হয় এখন। আমি মিথ্যের আশ্রয় নেওয়া মানুষের কাছে ফিরতে চাইনা আর। আজ থেকে আমি তোমায় খুঁজব না। মানুষের ভিড়ে, মানুষের একা হয়ে যাওয়ায় আমি তোমায় দেখব না কোনওদিন।

উড়োচিঠি- ০৪

প্রিয় দাসমশাই,

এই বোবা শহরে তন্নতন্ন করে তোকে খুঁজেগেছি কতবার। ছন্দহীন, তালহীন বেসুরো গানে বৃষ্টি নামে আজ। লাল পাখি ভিড় করে উঠোনে। তোকে দেখাতে পারেনি বলে চোখদুটো আমার দৃষ্টি ঝাপসা করে দেয়। সাইকেল নামাই। বড় রাস্তা পেরোতেই সেলিমপুর, গাঙ্গুলীবাগান, যাদবপুরের গলিপথ হুড়মুড়িয়ে নেমে পড়ে লকফিল্ডের অচেনা ব্লেকস্ট্রীটে। বরফে ঢেকে যায় সন্ধ্যে মেখে দাঁড়িয়ে থাকা কলকাতার অলিগলি। এই ধূসর রঙ আমি চিনিনা। বিচ্ছেদ আর ভালোবাসার মাঝে সমর্পণের মত শব্দ হারিয়ে গেছে, বহুদিন। অভিমান সত্যিই জমাট বাঁধে, বরফের মত ঠান্ডা। খুব শীত করে। ক্যালপল খাবোনা আর। চোখ পুড়ে পুড়ে ধূসর রঙ গাঢ় হয়, কালো খুব কালো। তার মাঝে মাঝে লাল রঙে মিশে যায় ঠোঁট। তুই আমার যাপনের ঠিক কতখানি জুড়ে আছিস তা এই অক্ষর জানেনা। ওরা প্রশ্ন করলে আমি বলেছি ওদের, তোর নাম। গোটা পৃথিবীকে নিঃশব্দে জানিয়ে এসেছি, ভালোবাসি। দ্বন্দ্বের সীমান্তে আমার জীবন, কাঁটাতারের বেড়া রক্তাক্ত করে রোজ। ফেরা হবে তো আমার? কোনওদিন?

কেন? কোথায়? কিচ্ছু জানিনা। শুধু জানি,

প্রশ্নহীন উত্তরময় জীবন তোর হোক। আমি কাগজি ফুলের গোছা নিয়ে দাঁড়াব শব্দের কাছে। শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে তুই লিখবি ঘর-বাড়ি-আমি-তুই----

তোর,

কথা


Comments