Skip to main content

Featured

  নীচে নামতে নামতে অতলে বুক পেতে শুই ,   হৃদপিণ্ড দূরে পড়ে আছে একদিকে। অস্থি-মাংসপিন্ড-রক্ত মিশে মাটির রং তামাটে। আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় পুরুষের দল। তাদের মধ্যে কেউ পা দিয়ে পিষে দিয়েছে এক ধারে পড়ে থাকা আমার হৃদপিণ্ড। কখনও মাথার মধ্যে পা রেখেছে কেউ। হাসি মুখে তাকিয়ে দেখেছি সব। মা, দিদিমা, শতাব্দী প্রাচীন মায়েদের ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে হাসি। দীর্ঘ দিনের অর্জিত বোধ, শিক্ষা, অর্থ, আত্মাভিমান পা দিয়ে সরিয়ে আমার মুখে হাসি লেগে থাকে।  আমার পাশে পরে থাকা সব মৃতদেহ হাসছে। কখনও পুরুষের দল, কখনও একজন পুরুষ পদাঘাত করেছে বহুবার বহুবার। অথচ ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হেসেছে মৃদুস্বরে। হাসতে হাসতে শেষবার ভিক্ষা চেয়েছি ঈশ্বরের কাছে, কান্না দাও হা ঈশ্বর কান্না দাও, সব স্থৈর্য, সব সহন, অবশিষ্ট অসীম প্রেম উৎসর্গ করে দিয়ে জানিয়ে এসেছি কাঁদতে দাও আমাদের। পরম বোধে প্রেমহীন করো আমাদের।

টুকরো কথা- ২৭

তুমি বললে একঘেঁয়ে সব, আমি শুনলাম বিষম বালাই, অভ্যেস। গুহাবাসী অন্ধ মানুষ আমি। আমার জীবনে মেঘ করে রোজ সকাল বিকেল। বৃষ্টি পড়ে, পা ডুবে যায় এমনি জলে। আমার দৃষ্টি রক্তজমাট নীলচে কালো। তুমি এলে চোখ ধাঁধিয়ে। পথিক হয়ে পথ হারিয়ে। অন্ধকারে লুকোচুরি খেলা, চোখ বাঁধলে অন্ধ সাজবে বলে। দৃষ্টি হারায় গহীন বনে, তামসিক মন কাঁপল বুঝি খেলনা বাটি ফেলে। শুকনো পাতাও ফিরে আসার শব্দ শোনে?

আমার ছিল জুঁইফুল ঘর। সেদিন হঠাৎ গুমোট গন্ধ এলো। ছত্রাক এলো দেওয়াল ভরে, বিছিয়ে গেল অন্ধ আমি-র চামড়া জুড়ে। আমার ছিল শাপলা ভরা দিঘি। তুমি তুললেও ফুল একটা দুটো। পাপড়ি খসল, পচন ধরে। থামল সেদিন তোমার আমার খেলনা জীবন। 

রোদ্দুর এল পর্দার ফাঁক দিয়ে। চোখ খুলতেই গোলাপি রঙে উঠোন ভরে। ভোরের আলো পড়ল তোমার দুচোখ বেয়ে। পাটভাঙা এক তাঁতের শাড়ি। রঙবেরঙের গল্পগুলো গোলাপ হয়ে ফুটল একে একে। আমি দেখলাম খামখেয়ালি কৃষ্ণকলি গল্প বলে আজ পদ্মদিঘির মাঠে। 

"বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস, এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে। পরাঙ্মুখ সবুজ নালিঘাস দুয়ার চেপে ধরে–"

Comments